অ্যাকোরিয়াম মাছের খাবার দেওয়ার নিয়ম

অ্যাকোরিয়াম মাছের খাবার দেওয়ার নিয়ম

অ্যাকোরিয়াম মাছের খাবার দেওয়ার নিয়ম – মাছ কি কি খাবার খায়? এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে বরং আপনাকে খুঁজতে হবে, যে মাছ কিকি খাবার খায় না সেটা খুঁজে বের করা। কারন মাছ বিষাক্ত কোনো খাবার ছাড়া প্রায় সব ধরনের খাবার খেয়ে থাকে। আপনার অ্যাকোরিয়ামে আপনি যে ধরনের মাছ রাখবেন তাদের পছন্দ মত খাবারই আপনাকে দিতে হবে।

বাসা বাড়ি কিংবা অফিসের সৌন্দর্য্য বাড়ানোর জন্য অনেকেই অ্যাকোরিয়াম ব্যবহার করেন। কিন্তু অনেকেই আছেন সঠিকভাবে কিভাবে মাছকে খাবার দিতে হয় তা জানেন না। অ্যাকোরিয়ামের মাছকে ভালো রাখার জন্য প্রধান যে জিনিস সেটা হলো মাছের খাবার। এই ব্লগটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনিও জেনে যাবেন কিভাকে অ্যাকোরিয়ামের মাছকে খাবার দিতে হয়, সেই সাথে সুস্থ থাকবে আপনার শখের অ্যাকোরিয়ামের মাছ।

একুরিয়ামের মাছ কেমন খাবার খায়? – অ্যাকোরিয়াম মাছেদের খাবার দিতে গিয়ে আমরা সব থেকে বেশি যে সমস্যায় পড়ি তা হলো অ্যাকোরিয়ামের পানি ঘোলা হয়ে যাওয়া। আর আমরা জানি যে অ্যাকোরিয়ামের পানি ঘোলা হওয়া মানেই মাছ মারা যাওয়ার সূত্রপাত। অনেকেই অনেকদিন ধরে অ্যাকোরিয়ামের মাছ পুষে চলেছেন, তাদের বিভিন্নজনকে বিভিন্ন মতামত দিতে দেখা যায়। কেউ বলে অ্যাকোরিয়ামে জ্যান্ত খাবার দিতে আবার কেউ বলে অ্যাকোরিয়ামে ড্রাই ফুড ব্যবহার করতে। কিন্তু নতুন অ্যাকোরিয়াস্টরা আসলে বুঝে উঠতে পারে না তাদের অ্যাকোরিয়ামের মাছের জন্য কেমন খাবার দেওয়া উচিত? আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো অ্যাকোরিয়াম মাছ কেমন খাবার খায়।

  • অ্যাকোরিয়াম মাছ সাধারণত ভালো মানের ও সহজে খাওয়া যায় এমন সব খাবারই খেতে পছন্দ করে।
  • অ্যাকোরিয়াম মাছ প্রক্রিয়াজাত শুকনো খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ন্যাচারাল ফুড বা জীবন্ত খাবার ( যেমনঃ এলগি, জুওপ্লাংকটন, ডাফনিয়া, মশার লার্ভা, ফাইটোপ্লাংকটন, চিংড়ি মাছ এমনকি মাছের ফ্রাই) খেয়ে জীবনধারণ করতে পারে।
  • মনে রাখবেন অ্যাকোরিয়ামের মাছ কোনো প্রকার বিষাক্ত খাবার খায়না।

অ্যাকোরিয়াম মাছের খাবার :

অ্যাকোরিয়ামের মাছ সাধারণত দুই ধরনের খাবার খায় –

  1. Natural Food বা প্রাকৃতিক খাবার
  2. Processed Food বা প্রক্রিয়াজাতকরন খাবার

Natural Food বা প্রাকৃতিক খাবার

অ্যাকোরিয়ামের মাছ সবথেকে বেশি পছন্দ করে প্রাকৃতিক খাবার। প্রাকৃতিক খাবারগুলো মধ্যে রয়েছে যেমন: এলগি, জুওপ্ল্যাঙ্কটন, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, উদ্ভিদের অংশ, আর্টিমিয়া, ড্যাফনিয়া, ব্রাইন শ্রিম্প, মশার লার্ভা, স্নেইল, কেঁচো, বিভিন্ন পোকামাকড়, পিঁপড়ার ডিম এবং টিউবিফেক্স ইত্যাদি।

প্রধান কয়েকটি প্রাকৃতিক খাবার নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো:

মশার লার্ভা

  • মশার লার্ভা খুবই সহজলভ্য এবং অ্যাকোরিয়ামের মাছের জন্য খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার।
  • অ্যাকোরিয়ামের ঢাকনা খোলা থাকলেই অনেক মশার লার্ভা হয় অ্যাকোরিয়ামের পানিতে।
  • এছাড়াও আপনি চাইলে বাসার ছাদ, বারান্দা কিংবা যেখানে সেখানে কোনো কিছুতে পানি রাখলেই অনেক লার্ভা পাওয়া যায়।যদিও তা বিপদজনক কেননা অনেক মশাবাহী রোগ ( যেমন ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ) ছড়াতে পারে।

ড্যাফনিয়া

  • যদি বলা যায় তাহলে, ড্যাফনিয়া প্রায় সব ধরণের  জীবন্ত খাবারের মধ্যে সবথেকে নিরাপদ খাবার।
  • অ্যাকোরিয়ামের সব জাতের মাছই ড্যাফনিয়া খাবারটি খুব আনন্দের সাথেই খেয়ে থাকে।
  • ড্যাফনিয়া খাবারের পুষ্টিগুণও অনেক ভালো।
  • ড্যাফনিয়া চাষ করাও অনেকটা সহজ, অনেকগুলো কালচার মিডিয়ামে গ্রীণ ওয়াটার এবং সোর্স ফুড দিলেই ড্যাফনিয়া খাবার হয়ে যায়।

ব্রাইন শ্রিম্প বা চিংড়ি

  • ডিম থেকে চিংড়ি ফুটানোও অনেক সহজ, শুধু লবণাক্ত পানির পাত্রে এয়ারফ্লো চালিয়ে চিংড়ির ডিম দিয়ে ৩৬-৪৮ ঘন্টার মাঝে সব ডিম ফুটে চিংড়ি আসবে। এখানে পরজীবি সংক্রমণের বিষয় নাই বললেই চলে।
  • চিংড়ির ডিম সবসময়ই শুকনো জাগয়ায় রাখবেন তা’না হলে নষ্ট হয়ে যাবে অর্থাৎ ওইসব ডিম থেকে আর চিংড়ি আসবেনা।
  • ব্রাইন শ্রিম্প বা চিংড়ি সবচেয়ে ভাল পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং সহজ লাইভ ফুড।

বিঃদ্রঃ  এইসব খাবারগুলো ফ্রিজে রেখে ড্রাই ফুড হিসেবে সংরক্ষণ করেও অনেকদিন করে খাওয়ানো যায়।

Processed Food বা প্রক্রিয়াজাতকরন খাবার

অ্যাকোরিয়াম মাছের আরেক ধরনের খাবার হলো প্রক্রিয়াজাতকরন খাবার। সকল ধরনের ড্রাই ফুড বা শুকনো খাবার সবই প্রক্রিয়াজাত খাবারের আওতায় পড়ে। এই তালিকায় আরো রয়েছে বাজারে পাওয়া যায় এমন কিছু খাবার, যেমন-  বিভিন্ন রকম প্যালেটস, ফ্লেকস, ট্যাবলেট, স্টিক ইত্যাদি। ঘরে তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের খাবারগুলোও প্রক্রিয়াজাত খাবারের আওতায় পড়ে। তাছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ন্যাচারাল ফুডের ফ্রোজেন ভার্সন।

ফ্রোজেন ড্রাই ফুড

অ্যাকোরিয়াম মাছগুলো পছন্দের খাবারগুলো মধ্যে আরেকটি খাবার হলো ফ্রোজেন ড্রাই ফুড। এই খাবারগুলো মূলত বিভিন্ন জীবন্ত খাবারের ফ্রোজেন ভার্সন। এইসব খাবার বাজারে কিনতে পাওয়া যায় বা আপনি এগুলো বাড়িতেও বানাতে পারবেন।

প্যালেটস

  • প্যালেস মূলত গোলাকার দানাদার খাবার।
  • এই দানাগুলো খুব বেশী বড় হয়না।
  • বাজারে পাওয়া বেশীরভাগ খাবারই দানাদার খাবার।
  • প্যালেটস খাবারের মূল উপাদান হলো মাছ, স্কুইড, চিংড়ি, কেঁচো, স্পিরুলিনা, ভিটামিন, খনিজ, চর্বি, মাছের তেল এবং অন্যান্য তরল পুষ্টি সংমিশ্রণ।

ফ্লেক ফুড

অ্যাকোরিয়ামের মাছগুলো ফ্লেক ফুড খেতেও পছন্দ করে। ফ্লেক ফুড দেখতে অনেকটা ছেড়া কাগজের টুকরোর মতো। ফ্লেকস ফুডের মূল উপাদান হলো মাছ, স্কুইড, চিংড়ি, কেঁচো, স্পিরুলিনা, ভিটামিন এবং খনিজ এর সংমিশ্রণ।

বাড়িতে সহজে অ্যাকোরিয়াম মাছের খাবার তৈরির উপায়

অ্যাকোরিয়াম মাছের খাবার দেওয়ার নিয়ম মেনে আপনি চাইলে বাড়িতেও আপনার অ্যাকোরিয়ামের মাছের জন্য খুব ভালো মানের পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার বানাতে পারবেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময় এটা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। বাড়িতে অ্যাকোরিয়ামের মাছের খাবার বানাতে হলে আপনাকে এই পাঁচটি স্টেপ ফোলো করতে হবে।

স্টেপ-১ বাড়িতে অ্যাকোরিয়াম মাছের খাবার তৈরির জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন: মটরশুঁটির দানা, আলু সিদ্ধ, সিদ্ধ করা ডিমের কুসুম, এক বা দুইটি পুঁইশাকের পাতা, এক বা দু’কোয়া রসুন, চিংড়ি, মুরগির কলিজা, মাংসের টুকরো, তরমুজের টুকরো, গাঁজর ও শশার ফালি ইত্যাদি।

স্টেপ-২ এই সকল উপাদানগুলির মধ্যে যে উপাদানগুলি দিয়ে খাবার তৈরি করতে চান সেগুলো পরিমানমতো নিয়ে হালকা সিদ্ধ করে নিন। তবে যদি আলাদা আলাদা সিদ্ধ করতে পারেন তাহলে খুবই ভালো।

স্টেপ-৩ এরপর উপদানগুলো নিয়ে তার মধ্যে মাল্টি ভিটামিন তরল ক্যাপসুল (ফার্মেসিতে পাওয়া যায়) এর একটি বা দুইটি তরল অংশ একসাথে নিয়ে ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এবং ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে, ব্লেন্ড করা খাবার থেকে পানি অপসারণের জন্য কোনো সুতি কাপড়ের মাঝে নিয়ে চিপে চিপে সব পানি বের করুন।

স্টেপ-৪ তারপর যেটুকু খাবার পাওয়া গেলো তা সংরক্ষণের জন্য শুকাতে হবে, এজন্য আপনারা কোনো থালা বা বাটির উপর খাবারগুলো পাতলা করে লেপে দিয়ে রোদে বা চুলোয় খাবারটি শুকিয়ে নিন।

স্টেপ-৫ ব্যাস আপনার খাবার এখন রেডি। এখন যাতে করে বাতাস না ঢুকতে পারে এমন বয়েম বা প্যাকেট করে মাছকে খাওয়ান।

মাছের খাবার দেওয়ার নিয়ম | Fish Mania BD

মাছের খাবার দেওয়ার নিয়ম 

  • অ্যাকোরিয়াম মাছকে কখনোই বেশি করে খাবার দিবেন না। মাছকে এমনভাবে খাবার দিবেন যাতে করে খাবারটুকু অ্যাকোরিয়ামে থাকা মাছগুলো ২-৪ মিনিটের মধ্যে খেয়ে শেষ করতে পারে।
  • কতটুকু খাবার মাছগুলো ২-৪ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে পারে তা বোঝার জন্য আপনি আপনার ইচ্ছেমতো খাবার দিন এরপন দেখুন ৪ মিনিটে তারা কতটুকু খাবার খেয়েছে তার একটা ধারনা নিন। এরপর অতিরিক্ত খাবার জাল দিয়ে সরিয়ে ফেলুন।
  • আপনার অ্যাকোরিয়ামে যদি অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া ফিলট্রেশনের ব্যবস্থা ভালো থাকে তাহলে দিনে ২/৩ বার খাবার দিলেও সমস্যা হবেনা। কিন্তু ফিলট্রেশন ব্যবস্থা ভালো না থাকলে দিনে ১/২ বার খাবার দিন। কারন মাছ খেয়ে শেষ করতে না পারলে তা অ্যাকোরিয়ামের নিচে জমা হবে এবং অ্যাকোরিয়ামের পানির পরিমান বেশি হবে, পরবর্তীতে পানি দূষিত হয়ে অ্যাকোরিয়ামের মাছ মারা যাবে। 

উপরোক্ত বিষয়গুলো অনুসরন করলে আপনার অ্যাকোরিয়ামের যত্নও ‍সুন্দর হবে সেই সাথে অ্যাকোরিয়ামের পরিবেশও ঠিক থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *