আপনার পোষা কুকুরের যত্ন নিয়ে সঠিক সমাধান

পোষা কুকুরের যত্ন

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বাড়িতে পোষা প্রাণী লালন-পালন করে থাকেন। যার মধ্যে একটি হলো কুকুর। কিন্তু আপনার এটা জানেন না যে কিভাবে আপনার পোষা কুকুরের যত্ন নিবেন। এই আর্টিকেলে আপনার পোষা কুকুরের যত্ন নিয়ে বিস্তার একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

পোষা প্রাণী বাড়িতে নিয়ে আসা এটা আপনার দায়িত্ব। একটি পোষা প্রাণী বাড়িতে নিয়ে আসা মানে বাড়িতে নতুন সদস্য যুক্ত করা।  ঘরজুড়ে তার ছোটাছুটি, খেলা করা কিংবা সঙ্গ দেয়া সবই বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। আবার পোষা প্রাণী মানেই যে শুধু সঙ্গ দেয় তা কিন্তু নয়, এক সময় সে হয়ে ওঠে আমাদের প্রিয় বন্ধু। এই নতুন বন্ধুর জন্য দরকার পর্যাপ্ত যত্ন এবং সুস্থ পরিবেশ।

পোষা কুকুরের যত্ন নিতে নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করুন

প্রথমত কুকুরের থাকার জন্য একটি আবাসস্থান গড়ে তুলুন। ফ্ল্যাট বাসা হলে ফ্ল্যাটের ভিতর এবং উঠান বাড়ি হলে উঠানে- দুই জায়গায় পোষা কুকুরের জন্য আরামদায়ক থাকার জায়গা নির্দিষ্ট করে ফেলুন। কুকুরের ছোট জাতের তুলনায় বড় জাতগুলোর থাকার জন্য বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়। তাই কিনে আনার আগে কুকুরটি কোথায় থাকবে, তা আরামদায়ক হবে কি না, এসব ঠিক করে ফেলা দরকার।

কুকুরকে খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন

পোষা কুকুরের যত্ন

বাড়িতে নিয়ে আসার পর কুকুর যদি খাবার না খেতে চায় তাহলে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। ব্যপারটা খুবই স্বাভাবিক যে একটি নতুন পরিবেশে এসে খাবার না খাওয়া। তবে এটা জানার চেষ্টা করুন সে আগের পরিবেশে থাকাকালীন কিভাবে খাবার খেতো। আপনি যদি এটা জানতে পারেন তাহলে আপনার জন্য খুবই ভালো আর যদি না জানতে পারেন তাহলে নতুর পরিবেশের সাথে কুকুরটিকে খাবার খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

স্বাস্থ্যকর ডগ ফুড নিতে ভিজিট করুন।

পোষা কুকুরের যত্ন নিতে নতুন পরিবেশে কিভাবে খাবার খাওয়াবেন?

নতুন পরিবেশে খাবার খাওয়ানোর জন্য কুকুরটিকে আজকে এক সময় কালকে এক সময় বা বিভিন্ন সময়ে খাবার খাওয়ানো বন্ধ করুন এবং নির্দিষ্ট একটা সময়ে তাকে খাবার দিন। শুরু থেকেই তাকে বুঝতে দিন যে সব সময় এই নির্দিষ্ট সময়েই খাবার খেতে হবে। কুকুরটিকে বাড়তি খাবার না দিয়ে বয়স অনুযায়ী যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুই খাবার দিন। সেইসাথে খেয়াল রাখবেন খাবার এর সাথে যাই দেন না কেনো কুকুরটি যেনো পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করে। আর এভাবেই তাকে নতুন পরিবেশের জন্য উপযোগী করে তুলুন।

কুকুরের জন্য একটি ডেইলি রুটিন তৈরি করুন

নতুন কুকুরছানাটিকে প্রথম থেকেই ধীরে ধীরে তার রুটিনে অভ্যস্ত করে নিন। প্রতিদিন সকালে হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, ক্রেটে কতখানি সময় থাকবে, পটি ট্রেইন, দিনে কতবার খেতে দেয়া হবে এর সবটাই তৃতীয় দিন থেকে শুরু করতে পারেন।

কুকুর খুব দ্রুত অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নেয়। তাই তাকে কীভাবে রাখবেন, সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্তও দ্রুত নিতে হবে। যদি আপনি চান, কুকুর কখনোই সোফায় বসবে না, ডাইনিং টেবিলে উঠে পড়বে না, তবে প্রথম থেকেই তাকে সেভাবে ট্রেনিং দিন। আগে থেকে অভ্যাস না করালে পরবর্তীতে অভ্যাস বদলানো কঠিন হয়ে উঠবে।

কুকুরের সাথে খেলনা দিয়ে খেলা করুন

পোষা কুকুরের যত্ন

কুকুরের যত্ন নেওয়ার সবথেকে ভালো মাধ্যম হলো কুকুরের সাথে খেলনা দিয়ে খেলা করা। কুকুরের জন্য বিভিন্ন খেলনা কিনে রাখতে পারেন। এটি আপনার ও কুকুরছানার মাঝে সম্পর্ক সহজ করার ক্ষেত্রে খুবই হেল্প করবে। কুকুরছানা একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে দাঁত দিয়ে বিভিন্ন জিনিস কামড়াতে চায়। বিভিন্ন খেলনা দেয়া থাকলে সে ঘরের জিনিস কামড়ে নষ্ট করবে না। এটা আপনার পোষা কুকুরের যত্ন নিতে বেশ উপকারী হবে।

পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখুন

আপনার কুকুরের সুস্থ স্বাস্থ্যের জন্য পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। টিকাদান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এগুলো যেন নিয়মিত হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কখনো কখনো দুর্ঘটনা বা অন্যান্য কারণে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হতেই পারে। জরুরি অবস্থায় কুকুরটি যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে জন্য একজন অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।

ডগ ট্রেনিং দেওয়া

আপনার পোষা কুকুরকে ডগ ট্রেনিং দেওয়ালে আপনার স্ট্রেস অনেকটা কমে যাবে। ডগ ট্রেনিং মানে হলো কুকুরকে সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন আচরণ শেখানো। আপনার কুকুরের জন্য ডগ ট্রেনিং অবশ্যই দরকার। দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে এবং খারাপ অভ্যাস থেকে কুকুরকে দূরে রাখতে যথাযথ ডগ ট্রেনিংয়ের বিকল্প নেই। তাই পোষা কুকুরকে ডগ ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা আগেভাগেই করে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *