বিড়ালের যত্ন নিতে যে বিষয়গুলো আপনার জেনে নেওয়া অত্যান্ত জরুরি

বিড়ালের যত্ন

পোষা প্রানীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো বিড়াল। বিড়াল মানুষের সাথে খুব সহজেয় আপন হয়ে ওঠে। কিন্তু মানুষের সাথে বিড়ালের দূরত্ব হওয়ার কারনে বিড়ালের ভাষা বুঝতেও আমরা অনেক সময়ই ব্যর্থ হই। যার কারনে আমরা আমাদের প্রিয় বিড়ালটির সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারিনা। বিড়ালকে সুস্থ রাখার প্রধান এবং প্রথম উপায় হলো বিড়ালের যত্ন নেওয়া।

আপনার পোষা বিড়ালকে সুস্থ রাখার কয়েকটি টিপস নিচে শেয়ার করা হলো যা আপনার পোষা বিড়ালের যত্ন নিতে সাহায্য করবে:

ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে পোষা বিড়ালের যত্ন

বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সবথেকে কার্যকরী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতি। কেননা আমাদের দেশে বেশিরভাগ পোষা বিড়াল রাস্তা থেকে বা বাড়ির আশেপাশে থেকে এডপ্ট করা। সেক্ষেত্রে ভ্যাক্সিনেশন বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতির মধ্যে মূলত র‌্যাবিস ভ্যাক্সিনটি অন্যতম। এমনকি আপনার পোষা প্রাণীটি যদি কুকুর হয় সেক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি অনুসরন করা উচিত।

বিড়ালকে সঠিকভাবে খাওয়ানো

সাধারনত, বিড়াল বা বিড়ালছানার জন্য আমরা উচ্চমানের ও সেরা মানের ব্রান্ডেড খাবার কেনার পরামর্শ দিই। আপনার পোষা বিড়ালের যত্নের জন্য আপনার পশু চিকিৎসক সেরা খাবারটি নির্ধারন করতে সক্ষম হবেন। বিড়ালকে সুস্থ রাখতে বিড়ালকে সঠিকভাবে খাবার দেওয়া প্রয়োজন। একটি বিড়ালকে কি এবং কতটুকু খাওয়ানো যাবে তা নির্ভর করে বিড়ালটির কার্যকলাপ, বয়স ও স্তরের উপর।

 

ঘুরে দেখুন সঠিক বিড়ালের খাবারগুলি।

 

ভেটেরিনারি কেয়ারের গুরুত্ব

প্রাপ্তবয়ষ্ক বিড়ালদের বছরে কমপক্ষে একবার সম্পূর্ণ পরীক্ষা করা উচিত। বিড়ালছানাগুলির প্রায় ৪ মাস বয়স না হওয়া অবধি সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ সপ্তাতে পশু ডাক্তারের পরিদর্শন করা উচিত। ৮ থেকে ৯ বছরের বেশি বয়ষ্ক বিড়াল পশু ডাক্তারের কাছে বছরের অন্তত দু’বার বা আরো বেশি নিয়ে যাওয়া উচিত।

বিড়ালের হাউজিং

আপনার পোষা বিড়ালটির ঘুম এবং বিশ্রামের জন্য আপনার বাড়িতে তার নিজস্ব পরিষ্কার, শুকনো জায়গা থাকা উচিত। সেই সাথে একটি নরম, উষ্ণ কম্বল বা তোয়ালে দিয়ে আপনার বিড়ালের বিছানায় দিন। বিছানাটি কিছু সময় পর পর পরিষ্কার করুন। এবং আপনার বিড়ালকে ঘরের ভিতরে স্থান দিন, কেননা এটি বাইরের বিড়াল বা কুকুরের সাথে মারামারি করার ঝুকি থাকে। মনে রাখবেন বাইরের বিড়ালদের fleas বা ticks দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

বিড়ালের যত্ন

 

অসুস্থতার লক্ষণ

যেহেতু অন্যান্যদের তুলনায় আপনার বিড়ালের সাথে আপনি সবচেয়ে পরিচিত সেহেতু আপনার বিড়ালের অসুস্থতার লক্ষন আপনিই ভালো বুজতে পারবেন যা কিনা একজন পশু ডাক্তারও মিস করতে পারে। অসুস্থতার সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে ক্ষুধা না থাকা বা ক্রিয়াকলাপ হ্রাস পাওয়া এবং সেই সাথে রয়েছে মিভাব এবং ডায়রিয়া, ঘন ঘন (বা কম) প্রস্রাব করা, কাশি এবং হাঁচি দেওয়া বা চোখ, কান বা নাক থেকে স্রাব ইত্যাদি।

বিড়ালের স্বাস্থ্য:

আপনার পোষা বিড়ালটির যত্নের জন্য বছরে অন্তত একবার পশু চিকিৎসকের সাথে দেখা করা উচিত। এবং অসুস্থতা দেখা দিলে বা আহত হলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করুন।

বিড়ালের টিকা

মানুষের মতোই বিড়ালদেরও প্রতিরোধক ওষুধের মূল উপাদান টিকা প্রদান করা। রোগের সংস্পর্শে আসার আগে বিড়ালের টিকা সংক্রমণের বিরুদ্ধে উত্সাহিত করতে ভ্যাকসিনেশন দেওয়া হয়। মারাত্মক সংক্রামক অসুস্থতার বিরুদ্ধে মূল প্রতিরক্ষা হিসাবে বিড়ালদের নিয়মিতভাবে কয়েকটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় (উদাহরণস্বরূপ, প্যানেলিউকোপেনিয়া, হার্পিসভাইরাস)।

বিড়ালের ওষুধ সেবন

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিড়ালকে কখনই আপনি ওষুধ দেবেন না। আপনার যদি সন্দেহ হয় যে আপনার বিড়াল একটি বিষাক্ত পদার্থ খেয়েছে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পশুচিকিৎসকের নিকট যান।

বিড়ালের গ্রুমিং

বিড়ালরা ঘন ঘন তাদেরকে পরিস্কার করে। প্রতিটি বিড়ালের মালিকের উচিত তাদের পোষা বিড়ালটির লোম পরিষ্কার করা বা গোসল করানো। বিড়ালের লোম পরিষ্কার না করলে বিড়ালের অসুস্থতা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

উপসংহার

আপনার প্রিয় বিড়ালের যত্ন নেওয়ার জন্য উপরোক্ত স্টেপগুলো অনুসরন করলে আপনার বিড়ালের অসুস্থতার হার কমে যাবে এবং বিড়ালে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *